প্রায়ই মিডিয়াতে বা পরিচিতজনদের মুখে এমন কাহিনী পাওয়া যায়। নিজেরা তো বিভ্রান্ত, অন্যদেরও বিভ্রান্ত করার প্রয়াসে উনারা হাইপোথেটিক্যাল হিস্ট্রি চালিয়ে দেন। এখানে সৌদি রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের ক্রোনোলজিক্যাল হিস্ট্রি রেফারেন্স-সহ খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করলাম। দেখে নিন।
.
প্রথমত, নাথন বর্নবম ১৮৯০ সালে সর্বপ্রথম জায়োনিজম (ইহুদিবাদ) শব্দটি বলতে শুরু করেন এবং ১৮৯৭ সালে থিয়োডর হারজেল একে একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। দেখুন- bit.ly/2mrPfeA
.
আর, মুহাম্মদ বিন সৌদ প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন ১৭৪৪ সালে। যা জায়নিজম শব্দটি তৈরি হওয়ার ১৪৬ বছর আগের কথা। এরপর, ১৮১৮ সালে তুর্কি আক্রমণে আল-সৌদ নিহত হলে সৌদি রাষ্ট্রের সমাপ্তি ঘটেছিল। এটাও হয়েছিল জায়োনিজম অস্তিত্বে পাবার প্রায় ৭২ বছর আগে। দেখুন- bit.ly/2iVF9gU
.
এদিকে, জায়নিজমের জনক থিওডর হার্জল জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬০ সালে - অর্থাৎ প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ১১৬ বছর পরে। দেখুন- bit.ly/1yc6zUz
.
দ্বিতীয়বার সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২৪ সালে, তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন সৌদ এর দ্বারা। এটা ছিল জায়নিজম তৈরির ৬৬ বছর আগে। ১৮৯১ সালে অভ্যান্তরীণ কোন্দলে দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের পরিসমাপ্তি হয়। এটা জায়োনিজম শব্দটি চালু হওয়ার ১ বছর পরে। দেখুন- bit.ly/2mPzqPb
.
অর্থাৎ, ইতিহাস বলছে- প্রথম ২ বারের সৌদি রাষ্ট্রের উত্থান-পতনে জায়োনিজমের ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়নি।
.
তৃতীয়বার সৌদি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে ১৯০২ থেকে ১৯৩২ সালে। এই সময়কালে ইহুদীদের পক্ষে সৌদি রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখা নিতান্ত অবাস্তব। কেননা, তখন বিশ্বে (মূলত ইউরোপে) ইহুদীরা শোচনীয় অবস্থায় ছিল। আরব ভূমি মোটামুটি নিরাপদ হওয়ায় ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকে তারা কোনো রকমে পালিয়ে আসছিল।
.
দ্বিতীয়তঃ ঐ সময়ে ব্রিটিশদের সাথে প্রকাশ্যে বা গোপনে মিউচুয়াল ট্রিটি বা প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট করেনি এমন কোনো দেশ ছিল না। ১৯১৩ সালের জুলাইতে তুর্কি ও ব্রিটিশদের মধ্যে “অ্যাংলো-অটোমান কনভেনশন-১৯১৩” নামে চুক্তি হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে তুর্কিরা পারস্য উপসাগর, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও শাতিল আরবের এখতিয়ার ব্রিটেনকে সমর্পণ করেছিল। দেখুন- bit.ly/2pXbo4z
.
এদিকে, ইবনে সৌদের ক্রমাগত বিজয়ে ব্রিটিশরা তাদের প্রতি নীতি পুনঃমূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়। ১৯১৫ সালে আব্দুল আজিজ আল-সৌদ ও ব্রিটিশ কূটনীতিক পার্সি কক্সের মধ্যে “দারিন চুক্তি” স্বাক্ষরিত হয়। এটা ছিল “অ্যাংলো-অটোমান কনভেনশন-১৯১৩” এর মাধ্যমে তুর্কি কর্তৃক আরবের এখতিয়ার বৃটিশদের সমর্পণ দুই বছর পরে। এ চুক্তির বিনিময়ে ইবনে সৌদ ব্রিটিশ প্রোটেক্টরেটগুলোতে আক্রমণ না করতে সম্মত হয়। দেখুন- bit.ly/2mouMaH
.
ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে “সাইক্স-পাইকট চুক্তি” সম্পাদিত হয়েছিল ১৯১৬ সালে। এখানে খেয়াল করুন- এই চুক্তিতে আরব উপদ্বীপ অন্তর্ভূক্ত ছিল না (bit.ly/1n1M8Ny) এবং মোস্ট ইম্পর্ট্যান্টলি- এর তিন বছর আগেই “অ্যাংলো-অটোমান কনভেনশন-১৯১৩” সম্পাদিত হয়েছিল।
.
১৯২৪ সালের ২৯ শে অক্টোবর রিয়াদে ইসলামিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সারা বিশ্বের মুসলিম প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনে মক্কা ও মদিনার উপর ইবনে-সৌদের এখতিয়ারের পূর্ণ স্বীকৃতি ও সমর্থন অর্জিত হয়েছিল। দেখুন- bit.ly/2mmlOuC। এরপর, ব্রিটিশরা ১৯২৬ সালে সৌদি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় (bit.ly/2lmuvVE) এবং তুরস্ক প্রজাতন্ত্রও ১৯২৬ সালেই সৌদি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় (bit.ly/2lkOvYH)।
.
এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল করুন। ১৮৩১ সালে মিশরের শাসক মোহাম্মাদ আলী পাশা তুর্কিদের বিরুদ্ধে অভিযান করেন। তুর্কিরা তখন রাশিয়া, ফ্র্যান্স ও ব্রিটেনের হস্তক্ষেপ আহ্বান করে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশরা তুর্কিদের সাথে যোগ দিয়ে মোহাম্মাদ আলী পাশাকে পরাজিত করে এবং বিনিময়ে তুর্কি বাণিজ্য বাজারে একচেটিয়া প্রবেশাধিকার অর্জন করে। দেখুন- bit.ly/2mlyy4P
.
এই একই মোহাম্মাদ আলী পাশা অটোমান সুলতানের অনুরোধে ১৮১১ সালে একবার আল-সৌদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছিলেন। দেখুন- bit.ly/2moFmhV। উল্লেখ্য, তখন আলী পাশার মিশর তুর্কি অনুগত রাজ্য ছিল। এজন্য, আগে থেকেই সৌদরা তুর্কি ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে বিশ্বাস করত না। সৌদরা নিজেদের সংগ্রাম নিজেরাই চালিয়ে নিয়েছে।
.
যাহোক, সৌদদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলে আরব ভূমি বিদেশি দখলমুক্ত হয়েছে। তারা আজ সমৃদ্ধ স্বাধীন একটি দেশ। বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর আপৎকালীন সময়ে দেশটি এতবেশি নন-রিফান্ডেবল সহায়তা প্রদান করে, যা বিশ্বের অপর সকল দেশ মিলেও করে না। ফিলিস্তিনের অর্থনীতির মূল উৎস হচ্ছে সৌদি মানিটারি এইড। দেখুন- bit.ly/2mt0Nyd। ১৯৭৩ সালে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে পূর্ণরূপে পরাস্ত হওয়ার পর থেকে দেশটি সামরিক সহযোগিতা বন্ধ রেখেছে।
.
এবারে ছবির বিবরণ। সৌদি রাষ্ট্র গঠনের পেছনে ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র প্রমাণের জন্য সম্ভবত সকলেই এই ছবি উপস্থাপন করেন। ছবিতে লাল বৃত্তে আব্দুল ওয়াহাব নজদীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যিনি ১৭৯২ সালে ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন- bit.ly/2bvdKg4। আর, পৃথিবীতে ক্যামেরা আবিষ্কার ও সর্বপ্রথম ছবি তোলা হয় ১৮১৬ সালে। দেখুন- bit.ly/241udCj।
.
তাহলে বলুন- ক্যামেরা আবিষ্কারের ২৪ বছর পূর্বে যিনি অতি বৃদ্ধাবস্থায় মারা গেছেন, তাঁর যৌবনকালের ছবি কিভাবে তোলা হয়েছিল? টাইম মেশিনে চড়ে?
.
Mohammad Salimullah